মোবাইল আসক্তি থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়

মোবাইল আসক্তি থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়

মোবাইল আসক্তি থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়, মোবাইল আসক্তি থেকে মুক্তির উপায় গুলো কি কি, স্মার্টফোনে আসক্তি কমাবেন, Ways to get rid of mobile addiction

 

বর্তমান ডিজিটাল জমানায় তথ্যপ্রযুক্তির বিভিন্ন যন্ত্রপাতি মানুষের জীবনধারা বদলে দিয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির বিভিন্ন নিত্যনতুন আবিষ্কার মানুষের জীবনধারা যেমন সহজ করে দিয়েছে আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে জটিলতাও তৈরি করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডিজিটাল যন্ত্রপাতির মধ্যে মোবাইল ফোন নিয়ে সবচাইতে বেশি মাতামাতি হচ্ছে। একটি স্মার্টফোন হাতে থাকলে দুনিয়াটাই হাতের মুঠোয় থাকে। 

এক মোবাইল ফোন হাতে থাকলে ফোন করার জন্য আলাদা টেলিফোন লাগবে না, সময় দেখার জন্য ঘড়ি লাগে না, সিমেনা নাটক দেখার জন্য টেলিভিশন লাগবে না, গান শোনার জন্য রেডিও টেপ লাগবে না, ছবি তোলার জন্য ক্যামেরা লাগবে না ইত্যাদি সকল প্রয়োজন একটি মাত্র মোবাইল ফোন দিয়েই খুব সহজেই করে ফেলা যায়।

আবার কয়েক বছর যাবৎ ইন্টারনেট টুজি, থ্রিজি, ফোর জি, ফাইভ জি সেবা দেয়ার কারণে মোবাইল ফোন ইন্টারনেট খুবই সহজলভ্য হয়ে পড়েছে। যার কারণে সারাবিশ্বের কোটি কোটি মানুষ এখন দিনের বেশির ভাগ সময়ই ইন্টারনেটে নিয়ে পড়ে থাকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক টুইটার ইউটিউব নিয়ে থাকে। যার জন্য সময়ের অপচয়, অর্থের অপচয় ইত্যাদি জটিলতা দেখা দিয়েছে।

আজ আমরা মোবাইল আসক্তি থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় নিয়ে আলোচনা করবো-

১. মোবাইল আসক্তি কমানোর জন্য যতটা সম্ভব মানসিক ভাবে মোবাইল নির্ভরতা কমাতে হবে।

২. রাতে ঘুমানোর সময় মোবাইল পাশে নিয়ে ঘুমানো যাবে না। রাতে মোবাইল ফোন বন্ধ করে অন্য কোথাও রেখে দিতে হবে।

৩. সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর পুশ নোটিফিকেশন বন্ধ রাখতে হবে। যাতে বারবার নোটিফিকেশন দেখে ফেসবুক ইউটিউবে ঢুঁ মারা না লাগে।

৪. ক্লাস করার সময় মোবাইল বন্ধ অথবা সাইলেন্ট করে রাখতে হবে। প্রয়োজনে মিস কল এলার্ট সার্ভিস ব্যবহার করতে হবে। যাতে মোবাইল বন্ধ থাকার সময় যারা রিং করেছিল তাদেরকে কল ব্যাক করা যায়।

৫. খাবার গ্রহণের সময় মোবাইল ফোনে ভিডিও দেখা যাবে না। তাহলে খাবারের প্রতি রুচি কমে যাবে। প্রয়োজনমত খাবার গ্রহণ করা যাবে না।

৬. মোবাইলের বদলে ইন্টারনেট ব্রাউজিং ইত্যাদি কাজে ডেস্কটপ কম্পিউটার ব্যবহার করতে হবে।

৭. বিকেলে বা অবসর সময়টা পরিবারের লোকজনের সাথে বন্ধু-বান্ধবদের সাথে আড্ডা দিতে হবে।

৮. লং টাইম কারো সাথে মোবাইলে কথা না বলে সরাসরি সাক্ষাতে বেশি সময় কথ বলার অভ্যাস তির করতে হবে।

৯. বিভিন্ন তথ্য মোবাইলের নোটপ্যাডে না লিখে ছোট ডায়েরী সার্বক্ষণিক সাথে রেখে তাতে তুলে রাখার অভ্যাস করতে হবে।

১০. বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সেলিব্রেটিদের সাথে দেখা হলে তাদের সাথে সেলফি তোলার প্রবণতা বাদ দিয়ে তাদের সাথে ব্যক্তিগত পরিচিত হবার চেষ্টা করতে হবে।

 মোবাইল আসক্তি থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় 

১১. খবর দেখার জন্য নিয়মিত কাগজের পত্রিকা এবং টেলিভিশন দেখার অভ্যাস করতে হবে।

১২. রাত দশটার পরে মোবাইল ফোন ব্যবহার বাদ দিতে হবে। বিশেষ করে বেশি রাতে ইন্টারনেট কোনো ভাবেই ব্যবহার করা যাবে না।

১৩. ভোরে বা সন্ধ্যায় ২ কিলোমিটার হাঁটার অভ্যাস করতে হবে। এতে শারীরিক পরিশ্রম হবে মানসিক স্ট্রেস কমবে।

১৪. মোবাইলে অতিরিক্ত কোনো এপস বা গেম সফটওয়্যার ব্যবহার না করা।

১৫. একা অবসরের সময়টা উপন্যাস বা গল্পের বই বা সিনেমা দেখার অভ্যাস করতে হবে।

১৬. মোবাইল স্কৃণে শক্ত ও দীর্ঘ পাসওয়ার্ড ব্যবহার করতে হবে। যাতে বারবার আনলক করে মোবাইল ব্যবহার করতে নিজের কাছেই বিরক্ত লাগে।

১৭. সামাজিক মাধ্যমগুলোর চ্যাট গ্রুপে যুক্ত না থাকা।

১৮. টাইম দেখার জন্য হাতঘড়ি ব্যবহার করুন। যাতে টাইম দেখার জন্য বারবার মোবাইল ফোন হাতে না নিতে হয়।

১৯. অ্যালার্ম হিসেবে মোবাইল ব্যবহার না করে আলাদা ছোট এলার্ম ঘড়ি ব্যবহার করা।

২০. মোবাইল ফোন অতিরিক্ত ব্যবহার না করার জন্য মানসিক ভাবে নিজেকে প্রস্তত রাখতে হবে। 

তথ্যসূত্র- প্রথম আলো, হইচই বাংলা 


আরও পড়ুন- ডাবের পানির উপকারিতা  


Previous Post