বাংলাদেশের ঐতিহাসিক স্থান

বাংলাদেশের ঐতিহাসিক স্থান, বাংলাদেশের ঐতিহাসিক স্থান কোনগুলি, বাংলাদেশের ৫০টি ঐতিহাসিক স্থান সমূহ, বাংলাদেশের ঐতিহাসিক স্থান ও নিদর্শন

হাজার বছর ধরে বাংলা এক অপরুপ রুপের লীলাভূমি এখানে ধর্ম রাজনীতির নানান উত্থান পতনের হাত ধরে অনেক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক স্থান গুলোও সেই পরিবর্তনের হাত ধরেই ইতিহাসের স্থান করে নিয়েছে

বাংলাদেশের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন শহর পুণ্ড্রববর্ধন গড়ে ওঠেছিল ২৫০০ বছর আছে

পুণ্ড্রবর্ধনের নতুন নামকরণ হয়েছে মহাস্থানগড় এটি বর্তমান বগুড়া জেলার করতোয়া নদীর তীরে অবস্থিত। প্রাচীন আমলের মৌর্য গুপ্ত রাজ বংশের জন্য বিখ্যাত ছিলো পুণ্ড্রবর্ধন। এই রাজবংশের রাজধানী ছিলো মহাস্থানগড়ে। আজো অসংখ্য ঐতিহাসিক নিদর্শনের দেখা মেলে মহাস্থানগড়ের প্রাসাদ জাদুঘরে। এছাড়াও মুসলিম মনীষী সুফি সাধক শাহ সুলতান বলখীর মাজার রয়েছে সেখানে। শাহ বলখির পুরো নাম হযরত শাহ সুলতান ইব্রাহিম বলখী মাহীসাওয়ার (রহ.) সেনাপতি পরশুরামকে যুদ্ধের ময়দানে পরাজিত করে সুফি বলখী মহাস্থানগড়ের দখল নেন। ১৯৯৭ সালে ফ্রান্সের পুরাত্ত্ববিদদের সহায়তায় বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর চতুর্থ এবং শেষ বার খনন কাজ চালিয়ে অসংখ্য পুরাকীর্তি প্রাচীন নিদর্শন আবিষ্কার করে। সেখানে মৌর‌্য আমলের শিলালিপি পাওয়া যায়।খোদার পাথর ভিটানামে মহাস্থানগড়ে একটি পাথর রয়েছে। যার ওজন ১০০ মণ এবং তা সাড়ে নয় ফুট লম্বা, আড়াইফুট উঁচু। এই পাথরকে হিন্দু মুসলমান উভয় ধর্মের লোকজন পবিত্র বস্তু বলে মান্যতা দান করে। এছাড়াও মহাস্থানগতে বৈরাগির ভিটা নামে আরো একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা  রয়েছে। 

বাংলাদেশের ঐতিহাসিক স্থান

মধ্য যুগের বাংলার বারো ভুঁইয়াদের অন্যতম মসনদ--আলা খ্যাত বীর ঈশাখাঁ এর রাজধানী ছিলো সোনারগাঁও  সোনারগাঁও এর নামকরণ করা হয়েছে ঈশাখাঁ এর স্ত্রী সোনাবিবি এর নামানুসারে। সোনারগাঁও থেকে মধ্য এশিয়া পর‌্যন্ত একটি সড়কের নাম হলো গ্র্যান্ড ট্যাংক রোড। মুঘল আমলে গ্র্যান্ড ট্যাংক রোড নির্মাণ করেন শের শাহ। সোনারগাঁয়ের পূর্বে বাংলার রাজধানী ছিলো বগুড়া জেলার মহাস্থানগড়ে। ঈশাখাঁ সোনারগাঁয়ে রাজধানী স্থাপন করেন প্রথম। বর্তমান বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা থেকে ২৩ কিলোমিটার পূর্বে মেঘনা নদীর তীরে অবস্থিত সোনারগাঁও। এছাড়ও সোনারগাঁও ঘিরে আরো ৩টি নদী রয়েছে- ব্রহ্মপুত্র, ইছামতি শীতলক্ষ্যা। সোনারগাঁয়ে প্রাচীন নিদর্শনের মধ্যে অন্যতম হলো- গিয়াসউদ্দিন আযম শাহের মাজার, পাঁচপীরের মাজার দরগা, হোসাইন শাহ নির্মিত একটি মসজিদ এবং বীর ঈশাখাঁ এর স্মৃতিবিজরিত একটি লোকশিল্প জাদুঘর। এছাড়াও বর্তমানে পানামনগর নামে একটি দর্শনীয় স্থান উন্মুক্ত করেছে পর্যটন কর্পোরেশন। মধ্য যুগের বিখ্যাত পরিব্রাজক ইবনে বতুতা ১৩৪৫ সালে সোনারগাঁও ভ্রমন করে তাঁর বইয়ে সম্পর্কে অনেক তথ্য তুলে ধরেন। সোনারগাঁও বর্তমানে বাংলাদেশের শীর্ষতম দর্শনীয় স্থানগুলোর একটি। এখানে প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক বেড়াতে আসেন। 

আরও পড়ুন- শাক বিক্রি করে চাল কেনার ঘটনা


Next Post Previous Post