শাক বিক্রি করে মায়ের জন্য চাল কিনবে ৫ বছরের আরিয়ান

চাল কিনবে বলে শাক বেচতে বের হয়েছে ছোট্ট আরিয়ান, শাক বেচে মায়ের জন্য চাল কিনবে আরিয়ান, অসুস্থ মায়ের জন্য চাল কিনতে শাক বিক্রি শিশুর

বছর বয়েসী আরিয়ান রহমান আলভির পলিথিনের ব্যাগে ভরে কয়েক আঁটি জংলী শাক নিয়ে বাগেরহাট শহরের রাস্তায় ঘুরছে শাক বিক্রির টাকা দিয়ে আরিয়ান তার মায়ের জন্য চাল কিনেত চায় গত কয়েকদিন ধরে আরিয়ান দেখছে তার মা ইফতারে পানি ছাড়া আর কিছুই খেতে পায়নি আরিয়ানের ঘরে চাল নুন ডাল কিছুই নেই স্কুল থেকে ফিরে তার দুপুরের ভাত খাওয়া হয়নি

আরিয়ানের মা আমেনা আক্তার তাকে বলেছিলেন, গোসল করে আয়, শহরে বড় ইফতার আছে, ওদিকে যাবনি। মায়ের কথায় কেন যেন ভরসা হয় না ছোট্ট আরিয়ানের। তাই তার মাকে না জানিয়েই শহরের দিকে কয়েক আঁটি জংলী শাক নিয়ে রওনা দেয় আরিয়ান। এই শাক বিক্রি করেই তার মায়ের জন্য চাল কিনেত চায় সে। সেই চাল দিয়ে ভাত রান্না করে তার মা সেহরীতে খাবেন। তরকারি প্রয়োজন নেই অবশ্য। একটু লবণ মাখিয়েই  মা ছেলে ভাত খেয়ে নিতে পারে। গত কয়েকদিন তো শুধু পানি খেয়েই কেটেছে আরিয়ানদের

গত মঙ্গলবার ১৯ এপ্রিল রাত আটটার দিকে আরিয়ানকে বাগেরহাট শহরের শালতলা শহীদ মিনার রোডে পলিথিনের ব্যাগে করে শাক নিয়ে ঘুরতে দেখে প্রথম আলোর বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি সরদার ইনজামামুল হকের নজরে পড়ে সে। পাশেই বৈশাখী মেলা চলছিল। মেলায় দাঁড়িয়ে দীর্ঘক্ষণ শিশুদের নাগরদোলায় দোল খেতে দেখছিল সে 

আরিয়ানের জবানিতে জানা যায়, শহরের রাস্তায় শাক বিক্রি হয় আগে থেকেই জানা ছিলো তার। আগেও রাস্তায় শাক বিক্রি হতে দেখেছে সে। তাই গ্রামের খালের পাড় থেকে শাক তুলে এনেছে শহরে বিক্রি করবে বলে। এব রাস্তার মোড়ে কিছুক্ষণ শাক বিক্রির আশায় বসে ছিলো- কিন্তু বিক্রি না হওয়ায় সে রাস্তায় হেঁটে হেঁটে বিক্রির উদ্দেশ্যে ঘুরতে শুরু করে সে। এভাবে বিক্রি হয়- তবে ততক্ষণে সন্ধ্যা নেমে এসেছে

দুই আঁটি শাক আর শাক বিক্রির আশি টাকা নিয়ে ঘুরছিলো শালতলার রাস্তায়। মেলার জটলা দেখে উঁকি মারে আরিয়ান- সেখানকার খেলনার দোকান থেকে একটি চামচ একটি প্লাস্টিকের বাটি কিনেছে সে মায়ের জন্য। দুটো জিনিশ কিনেই আরিয়ানের আশি টাকা শেষ। তাই অবশিষ্ট শাক বিক্রি করে সেই টাকা দিয়ে চাল কেনার জন্য চেষ্টা করেছ। কিন্তু ততক্ষণে রাত সাড়ে আটটা- চাল কেনা হয়নি। তাই মেলার মাঠ থেকে বেরিয়ে আবারও রাস্তায় শাক বিক্রির চেষ্টা চালায় আরিয়ান। সেসময় দেখা হয় প্রথম আলোর বাগেরহাট প্রতিনিধি সরদার ইনজামামুল হকের সঙ্গে

আরিয়ান জানায়, তার বাবার বাড়ি রংপুর জেলায়। দাদাবাড়ির লোকজন বছর আগে তার মাকে নির্যাতন করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। এখন তারা বাগেরহাট সদর উপজেলার গোটাপাড়া ইউনিয়নের ভাটশালা গ্রামের নানাবাড়ির একটি জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করে

আরিয়ান রহমান আলভির ভাটশালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণীতে পড়ে। সে বলে, ঘরে চাল নেই, চাল কিনতে হবে, তাই সে শাক বিক্রি করতে এসেছে শহরে। আরিয়ানের গ্রাম শহর থেকে একদম কাছে নয়- মাঝে একটি নদীও রয়েছে। খেয়ায় নদী পাড় হয়ে পুরোটা পথ পায়ে হেঁটে শহরে এসছে সে। সে জানায়, হাঁটতে তার কষ্ট হয় না, টাকাও নেই ভ্যানে ওঠার মতো। চাল কেনার মতো টাকা জোগাড় হলে সে আবার পায়ে হেঁটেই বাড়ি ফিরবে

আরিয়ানের বাবা পেশায় জেলে। বাবার বাড়ি থেকে তার মাকে তাড়িয়ে দেয়া নানবাড়ি এসে আশ্রয় নিয়েছে সে আর তার মা আমেনা আক্তার। নানাবাড়িতেও সৎনানি। সৎনানি আরিয়ান আর তার মাকে সহ্য করতে পারে না। আরিয়ানের মা বিভিন্ন রকম শারীরিক রোগে আক্রান্ত। অসুস্থ শরীর নিয়ে লোকের বাড়িতে কাজ করে তার জন্য ভাত নিয়ে আসে

প্রথম আলোর সাংবাদিক লিখেছেন, দীর্ঘক্ষণ ধরে আরিয়ানের সঙ্গে তার আলাপে আরিয়ানের কথায় বারবার কেবল চাল কেনার চিন্তাই ঘুরে ফিরে আসছিলো। ভাত কি দিয়ে খাবে জানতে চাইলে আরিয়ানের ভাষায় তা ভাবেই ফুটে ওঠে- ‘আমার খাতি বেশি কিছু লাগে না, আমি শুধু ভাত নুন দিয়েও খাতি পারি। কোনো কষ্ট হয় না। কিন্তু চাইল না কিনলি তো কিচ্ছু হচ্ছে না। খাওয়া দাওয়া হবে না নে।

সূত্র: প্রথম আলো

আরো পড়ুন: মোবাইল আসক্তি থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়

Next Post